রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর Teletalk Bangladesh Limited–এর হাজারের বেশি সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স পর্যবেক্ষণে একাধিক ডেটা ব্রিচ ও ডোমেইনভিত্তিক তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ ই-মেইল সার্ভার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্যভান্ডার এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন ডেটায় অননুমোদিত প্রবেশাধিকারের ইঙ্গিত মিলেছে।
একাধিক থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টেলিটকের ডোমেইন সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ হাজার ১৯৫টির বেশি ওপেন ডেটা ব্রিচ এবং প্রায় ১ হাজার ২০০টি ডোমেইনভিত্তিক তথ্য ফাঁস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৯টি ঘটনায় টেলিটকের পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে সাইবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত।
একজন ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, তথ্য ফাঁসের পেছনে সার্ভার হ্যাকিং, ইনফোস্টিলার ম্যালওয়্যার, ফিশিং ক্যাম্পেইন বা তৃতীয় পক্ষের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকতে পারে। তবে যেভাবেই তথ্য বের হোক, তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এটি প্রযুক্তিগত বিষয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সাইবার অডিট না থাকা এবং দুর্বল নিরাপত্তা কাঠামো এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তাদের মতে, দ্রুত ইনসিডেন্ট রেসপন্স, লগ অডিট, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এবং ফরেনসিক তদন্ত না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশের একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও টেলিযোগাযোগ খাতে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।