লাইসেন্স ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০ বছরের গোপন চুক্তি করেছে Bangladesh Post Office। চুক্তির আওতায় ডাক বিভাগের যানবাহন, অবকাঠামো ও জনবল ব্যবহার করে ই-কমার্স পার্সেল পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির নাম আগে ছিল ‘ইপোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেড’, পরে নাম পরিবর্তন করে করা হয় ‘ক্লিকএক্স লিমিটেড’। অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে পার্সেল পরিবহনের প্রায় সব দায়িত্ব ও খরচ বহন করছে ডাক বিভাগ, কিন্তু আয়ের বড় অংশ যাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সময় বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে এই চুক্তি করা হয়।
২০২২ সালে ই-কমার্স খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে গঠন করেন ইপোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেড। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি কুরিয়ার ও পার্সেল ডেলিভারি কার্যক্রম শুরু করে। তবে কুরিয়ার সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম তালিকাভুক্ত ছিল না সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, লাইসেন্স না পাওয়ার পর ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ডাক বিভাগের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক এবং পরে একই বছরের ৭ নভেম্বর মূল চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
চুক্তি অনুযায়ী এটি ১০ বছর মেয়াদি এবং ‘গোপনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি বাতিল করতে হলে এক বছর আগেই নোটিশ দেওয়ার শর্তও রয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, পার্সেল পরিবহন, অবকাঠামো ব্যবহার, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণসহ প্রায় সব ব্যয় বহন করবে ডাক বিভাগ। বিপরীতে আয়ের বড় অংশ পাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
ডাক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ই-কমার্স পার্সেল পরিবহনের পুরো ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির হাতে রয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াতেও দেরি রয়েছে বলে জানা গেছে। মাসের শুরুতে বিল পাঠানোর পর প্রায় ৩০ কার্যদিবস পরে অর্থ পরিশোধ করা হয়, ফলে দীর্ঘ সময় অর্থ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে যাচ্ছে।
সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন গোপন চুক্তি কেন প্রয়োজন হলো।
তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন, এটি ডিজিটাল কমার্স খাতকে এগিয়ে নিতে নেওয়া একটি উদ্যোগ ছিল এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘ক্লিকএক্স লিমিটেড’ করা হয়েছে এবং নতুন মালিকানা কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে।
ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।