রংপুরের Pirganj উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের মেরিপাড়া এলাকায় নলশিষা নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে বাঁশের পাটাতন তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন তারা।
Local Government Engineering Department (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে নলশিষা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি মেরিপাড়া, নলশিষাসহ অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, কৃষিজমি ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। গত শনিবার (৯ মে) বৃষ্টির কারণে সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। এরপর থেকে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পরে এলাকাবাসী নিজেরাই বাঁশের পাটাতন তৈরি করে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। তবে সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একই এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন জানান, বর্তমানে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও মোটরসাইকেল বা ভ্যান উঠলেই পুরো পাটাতন কাঁপতে থাকে। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
পথচারী নুরুল ইসলাম বলেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী নয়ন ও সালাম জানায়, প্রতিদিন স্কুল ও কলেজে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বৃষ্টির দিনে বাঁশের পাটাতন পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুর সংযোগ সড়কটি ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় কৃষকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা জানান, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে ভ্যান বা ছোট যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে বর্ষা মৌসুমে পুরো সংযোগ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পি জানান, সড়ক ধসের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।