পেনাল্টি বক্সের ভেতরে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ধাক্কাধাক্কি, টানা-হেঁচড়া ও জড়িয়ে ধরার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে FIFA। আসন্ন বিশ্বকাপে এ ধরনের পরিস্থিতিতে রেফারিদের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের প্রধান পাসকাল জুবারবুহলার।
সাবেক সুইস গোলরক্ষক জুবারবুহলার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই ধরনের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে Arsenal FC-এর ম্যাচগুলোতে এমন প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পাওয়া শীর্ষ রেফারিরা এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা আর্সেনালের ম্যাচগুলোতে এই প্রবণতা দেখেছি। এটি এখন এক ধরনের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের সেরা রেফারিরা এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।”
সম্প্রতি West Ham United ও আর্সেনালের ম্যাচে একটি বিতর্কিত গোল বাতিলকে ঘিরে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। স্টপেজ টাইমে ওয়েস্ট হ্যামের সমতাসূচক গোলটি রেফারি ক্রিস কাভানাঘ বাতিল করেন, কারণ গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে ফাউল করেছিলেন পাবলো।
তবে ওয়েস্ট হ্যামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কর্নারের সময় আর্সেনালের খেলোয়াড়রাও প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরা ও টেনে ধরার মতো আচরণ করছিলেন। যদিও ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনিসহ অনেকেই রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন।
জুবারবুহলার বলেন, পেনাল্টি বক্সে গোলরক্ষকদের ওপর ছোট ছোট ফাউল শনাক্ত করা রেফারিদের জন্য কঠিন। খেলোয়াড়দের ভিড়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় সহজ নয়, তবে বিশ্বকাপে এই বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি থাকবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB) মাঠে জড়িয়ে ধরা ও টানা-হেঁচড়া বন্ধে নতুন নিয়ম নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। তবে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো বিশ্বকাপের পর কার্যকর হতে পারে।
উল্লেখ্য, কর্নার ও সেট-পিসে গোলরক্ষকদের ঘিরে ধরার কৌশলকে কাজে লাগিয়ে সফলতা পাচ্ছে আর্সেনাল। চলতি মৌসুমে দলটির ৬৮টি লিগ গোলের মধ্যে ২১টি এসেছে এই সেট-পিস কৌশল থেকেই।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।