রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার আওতায় মাত্র এক সপ্তাহেই তিন শতাধিক ট্রাফিক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১২ মে) রাজধানীর বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তিচালিত ট্রাফিক সিগন্যাল উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মামলা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তখন ট্রাফিক সদস্যদের হাতে লিখে মামলা করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে।
ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো এআই ক্যামেরা ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করছে। জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো কিংবা অন্যান্য মোটরযান আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল প্রসিকিউশন তৈরি হচ্ছে।
ক্যামেরায় ধারণ করা কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সরাসরি বিআরটিএর ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গাড়ির মালিকের তথ্য শনাক্ত করছে। পরে সেই তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মামলার নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জরিমানা আদায় নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। খুব শিগগিরই মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানোর সুবিধাও চালু হবে। এতে ঘরে বসেই অনলাইনে জরিমানা পরিশোধ করা যাবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে রাজধানীর ৩০টি স্থানে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত কয়েকটি ক্রসিংয়ে নতুন সিগন্যাল লাইট চালু করেছে। এছাড়া গুলশান ও হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকাতেও নতুন সিগন্যাল স্থাপনের কাজ চলছে।
মো. সরওয়ার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন হাজারের বেশি মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘদিনের ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা রাতারাতি দূর করা যাবে না। ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, ২০২২ সাল থেকে জমে থাকা প্রায় এক লাখ ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তির কাজও চলছে। এর মধ্যে ৬৭ হাজার মামলা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজধানীর যানজট কমাতে বিভিন্ন এলাকায় ইউটার্ন ও রাইট টার্ন সীমিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।