মেগা প্রকল্পের নামে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি দাবি করেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও ঋণের চাপের মধ্যেই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে ১৬টি মেগা প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অনেক কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কিছু প্রকল্পে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় নতুন করে কাজ শুরু করতেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও এখন বড় প্রকল্পে আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলমের ভাষ্য, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভিজিবিলিটি ও মাওয়া প্রান্তের অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় তিনি নিজেও খেয়াল রাখবেন কতগুলো গাছ টিকে আছে।
তিনি বলেন, এক বছর পর গাছ না থাকলে সেই উদ্যোগের কোনো মূল্য থাকে না। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গাছের টেকসই পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।