রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণ ও বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটির নাম ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি।
প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা। এটি আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো বড় পানি শোধনাগারগুলো চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত রাজধানীর পানি সরবরাহ সচল রাখা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং আধুনিক সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন (SCADA) সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ এমএলডি পানি সরবরাহ করছে, যা প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। তবে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২৯ সালের মধ্যে চাহিদা ৩ হাজার ৫৫৮ এমএলডিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নির্মাণাধীন রয়েছে ৫০০ এমএলডি সক্ষমতার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার (ফেজ-১) এবং ৪৫০ এমএলডি সক্ষমতার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩।
প্রকল্পের আওতায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০টি পাম্প সেট ও ভিএফডি স্থাপন, ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম চালু, ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন এবং ২৫০টি পাম্প হাউস নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে বিপুল পরিমাণ ক্যাবল ও পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।
সরকারি পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বড় পানি শোধনাগারগুলো চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।