থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার তিনি ব্যাংককের কারাগার থেকে বের হন। ৭৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী ও সাবেক নেতা গত সেপ্টেম্বর থেকে দুর্নীতির মামলায় এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন।
থাইল্যান্ড–এর কারা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, আগাম মুক্তি পাওয়া বন্দীদের মধ্যে তিনি একজন। তার প্যারোল আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরতে হবে।
নিয়ম অনুসারে, মুক্তির তিন দিনের মধ্যে তাকে ব্যাংককের প্রবেশন অফিসে হাজির হতে হবে। প্যারোল চলাকালে তিনি প্রতি মাসে একবার করে প্রবেশন অফিসে রিপোর্ট করবেন। তার বাসভবন ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার বান চান সং লা এলাকায়, যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আওতাধীন।
কারাগারের বাইরে মুক্তির পর থাকসিন সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘনভাবে দেখা করেন। সেখানে কয়েকশ সমর্থক জড়ো হয়ে ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ স্লোগান দেন।
সমর্থকদের মতে, তিনি সরাসরি রাজনীতি ছাড়বেন না। যদিও কিছুদিন দূরে থাকবেন, তবে পুরোপুরি রাজনীতি থেকে সরে যাবেন না বলে ধারণা তাদের।
থাকসিন দীর্ঘদিন ধরে থাই রাজনীতির একটি প্রভাবশালী নাম। তার দল ফেউ থাই পার্টি ও এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো এই শতাব্দীতে দেশের অন্যতম সফল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
তিনি ২০০১ ও ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারিয়ে নির্বাসনে যান। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে আসার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, পরে রাজকীয় ক্ষমায় তার সাজা কমানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, তার প্যারোলে মুক্তি সাময়িকভাবে সমর্থকদের মধ্যে ফেউ থাই পার্টিকে শক্তিশালী করবে, তবে একই সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজরও আরও বাড়বে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।