উত্তর কোরিয়া তাদের সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন এক নিরাপত্তা নীতি যুক্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে যদি কোনোভাবে হত্যা করা হয়, তাহলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বাহিনী কোনো ধরনের আলাদা নির্দেশ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে এক মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনার পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই উত্তর কোরিয়া এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কিম জং উন। এরপরই পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির অধিবেশনে এই সাংবিধানিক পরিবর্তন অনুমোদন করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এনআইএস বিষয়টি তাদের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছে বলেও জানানো হয়েছে।
সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, যদি কোনো বৈরী হামলায় রাষ্ট্রের পারমাণবিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে, তাহলে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে।
এর ফলে শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত দেওয়ার অবস্থায় না থাকলেও সামরিক ব্যবস্থা নিজ থেকেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণ সংক্রান্ত ধারণা বাতিল করে দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নীতি পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটিও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।