তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের পর অবশেষে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়। পাঁচ দিনের টানটান রাজনৈতিক আলোচনার পর স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ১০টায় তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত তার দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই বড় সাফল্য অর্জন করে। ২৩৪ আসনের মধ্যে দলটি ১০৮টি আসন পেয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনে।
ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–র প্রায় ছয় দশকের আধিপত্য ভেঙে দেয় বিজয়ের দল। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ফল ঘোষণার পর কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয় গভর্নর রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে গভর্নর আরও সমর্থন জোগাড়ের পরামর্শ দেন।
এরপর শুরু হয় জোর রাজনৈতিক আলোচনা। ডিএমকে জোটের শরিক সিপিআই ও সিপিআই(এম) সমর্থন দিলে জোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৬-তে। বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় টিভিকের কার্যকর আসন হয় ১০৭টি।
পরে ভিসিকে দল দুই বিধায়কের নিঃশর্ত সমর্থন দেয়, এতে সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৮-তে। এরপর ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগও যোগ দিলে জোট শক্তি বেড়ে ১২০ জন বিধায়কে পৌঁছে যায়। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়।
সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় আবারও গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যার প্রমাণ দেখানোর পর তাকে সরকার গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর শপথের সময় নির্ধারণ করা হয় রবিবার সকাল ১০টা।
রাজভবনের বিবৃতি অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আগামী বুধবারের মধ্যে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে নতুন সরকারকে।
শপথ অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।