দীর্ঘদিনের কর্মীসংকট ও বাজেট ঘাটতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কানাডার প্রতিরক্ষা খাত। মাত্র দুই বছর আগেও যেখানে সেনাবাহিনীতে জনবল নিয়োগ ছিল হতাশাজনক, সেখানে এখন দেশটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়োগের রেকর্ড গড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য কানাডায় নতুন করে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়েছে। বিশেষ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম রাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি অনেক নাগরিককে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন করেছে, যা তাদের প্রতিরক্ষায় আগ্রহী করে তুলছে।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে গত এক প্রজন্মের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তরুণদের কাছে সেনাবাহিনী এখন একটি আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে যুব বেকারত্বের হার প্রায় ১৪ শতাংশ হওয়ায় স্থিতিশীল চাকরি ও ভালো বেতনের নিশ্চয়তা পেতে অনেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।
বছরের পর বছর ন্যাটোর নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডা এখন প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্বিবেচনায় বড় ভূমিকা রাখছে।
কানাডিয়ান গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের গবেষক শার্লট ডুভাল-লান্তোইন বলেন, বর্তমান বিশ্ব আর আগের মতো নিরাপদ নয় এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছে।
সূত্র: BBC
এখনো কোনো মতামত নেই।