ফেসবুক ও টেলিগ্রামে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও বিক্রিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভয়াবহ সাইবার অপরাধচক্র। সিক্রেট ও ওপেন গ্রুপের মাধ্যমে কোটি টাকার পর্নোগ্রাফি ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারে তারকা থেকে সাধারণ মানুষ সবার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেল, মানহানি ও অর্থ আদায়ের ঘটনা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অপরাধের বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তাই শিশু বয়স থেকেই নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর দ্রুত আইন প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, সমাজমাধ্যমে অপরাধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে “নেটিজেন এটিকেট” তৈরি করে তা ব্যাপকভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি র্যাব টেলিগ্রামভিত্তিক একটি সাইবার চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেল করত। অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নেওয়া কিংবা প্রতিহিংসার মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে গোপন টেলিগ্রাম চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে সেগুলো বিক্রি বা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে বিভিন্ন তারকার ছবিও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিনেত্রী অপি করিম ও তাসনিয়া ফারিণ-সহ অনেক শিল্পীর ছবি ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর আহমেদ সুমন বলেন, উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সচেতনতা ও আইনের প্রয়োগ অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশেও দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, দেশে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত সাইবার বাহিনী গঠন ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তরুণদের মানসিক ও সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নারীরা।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
এখনো কোনো মতামত নেই।