ধর্মীয় আলোচক মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী এর দ্বিতীয় বিয়েকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যায় কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে একজন আইনজীবী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে রাখার বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন। তবে আদালত সেই রিট খারিজ করে আগের নিয়মই বহাল রাখেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা জানান, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি এবং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি এখনও বাধ্যতামূলক রয়েছে। কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না।
আইন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারণ ব্যাখ্যা করতে হয় এবং বর্তমান স্ত্রীর সম্মতির বিষয়টিও উল্লেখ করতে হয়। পরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত সালিশি পরিষদ বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে বলে যে প্রচার চলছে তা বিভ্রান্তিকর। আদালত বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামোকেই যৌক্তিক হিসেবে বহাল রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি দেনমোহরের বকেয়া অর্থও তাৎক্ষণিক পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে আরবিট্রেশন কাউন্সিল স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াও দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি বিবেচনা করতে পারে। যেমন স্ত্রী দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকলে, বন্ধ্যত্ব, শারীরিক বা মানসিক জটিলতার মতো বিষয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আদালত ও আইনের অবস্থান এখনও আগের মতোই রয়েছে। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই সহজে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে বলে যে ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়।
এখনো কোনো মতামত নেই।