মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের নীতি থেকে আপাতত পিছু হটেছে যুক্তরাষ্ট্র। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনাকে ঘিরে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ ও সমালোচনা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব সামরিক সম্ভাবনা অনিশ্চিত হওয়া এবং কূটনৈতিক চাপের কারণেই ওয়াশিংটন দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
ঘটনার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত সফরের ঠিক আগে আব্বাস আরাগচি চীন সফরে পৌঁছান। একই সময়ে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চীনের সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুংদা ফ্যান মনে করেন, শক্তি প্রদর্শনের পুরোনো কৌশল এবার কার্যকর হয়নি। তার মতে, বিশ্বব্যাপী চাপ এবং কূটনৈতিক বাস্তবতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে আপস করতে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী শীর্ষ বৈঠকের আগে উত্তেজনা কমানোর একটি বৈশ্বিক প্রয়াসও কাজ করেছে। পাশাপাশি চীন এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশগুলো এখন নিজেদের কৌশলগত সিদ্ধান্তে আরও স্বায়ত্তশাসিত ভূমিকা নিতে পারে।
তবে সতর্ক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে ইরান সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে চীন সম্ভাব্য সমঝোতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।