মে মাসে চরম আবহাওয়ার শঙ্কা, তাপপ্রবাহের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা
চলতি মে মাসজুড়ে দেশের আবহাওয়ায় তীব্র অস্থিরতার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, এ মাসে একদিকে যেমন তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে, তেমনি ঝড় ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের পাশাপাশি অন্তত একটি তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৪১ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মাসজুড়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে পারে। তবে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে, মে মাসে কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড়েরও পূর্বাভাস রয়েছে। প্রায় ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ২ থেকে ৩ দিন তীব্র ঝড় হতে পারে। এসব ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটতে পারে, যা কৃষি ও অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যেখানে এ মাসে গড়ে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, সেখানে এবার প্রায় ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৬ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের দ্বিগুণেরও বেশি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৌসুমি বায়ুর আচরণে পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।