বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ভারত ও চীনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফা বিশ্বকাপ-এর সম্প্রচার নিয়ে ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিলেও তা ফিফার মনঃপুত হয়নি। অন্যদিকে সনি গ্রুপ কর্পোরেশন আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি।
শুধু ভারত নয়, চীনেও এখনো কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফিফার সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি। এর আগের ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন আগেভাগেই স্বত্ব নিশ্চিত করেছিল। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
ফিফা জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভারত ও চীনের বাজার নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টিভি দর্শকের মধ্যে চীনের অংশ ছিল ১৭.৭ শতাংশ এবং ভারতের ২.৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতে হওয়ায় দর্শক কমতে পারে। ভারতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কারণে ফুটবলের বাণিজ্যিক আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কম বলেও মনে করা হচ্ছে।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে সময় স্বল্পতার কারণে দ্রুত সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করা, অবকাঠামো প্রস্তুত এবং বিজ্ঞাপন বাজার সক্রিয় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন সংস্থা ডেন্টসু ইন্ডিয়ার স্পোর্টস বিভাগের পার্টনার রোহিত পোতফোদের বলেন, “এটাকে অচলাবস্থা বলা যাবে না, বরং শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পর্যায় চলছে।”
ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১.৪৭ বিলিয়ন এবং চীনের ১.৪২ বিলিয়ন এই দুই দেশ মিলে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা। ফলে সম্প্রচার স্বত্বের জটিলতা না কাটলে বিশাল সংখ্যক দর্শক বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।