আজ ৫ মে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের বহুল আলোচিত একটি দিন। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর শাপলা চত্বর এলাকাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনটি ‘শাপলা চত্বর দিবস’ হিসেবে বিভিন্ন মহলে স্মরণ করা হচ্ছে।
সেই সময় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষ মতিঝিলে জড়ো হন।
রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেলসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। তবে ওই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতভেদ রয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
ঘটনার পর গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও সে সময় আলোচনা ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ বিচারাধীন রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল এবং কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। বিকেলে মতিঝিল এলাকায় কর্মসূচি পালনের কথাও রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।