কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। খামারিরা গবাদিপশুর পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একইসঙ্গে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোচাগঞ্জে নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জন। এ বছর উপজেলায় মোট ২৯ হাজার ৬৩০টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যার মধ্যে গরু, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা প্রায় ২২ হাজার ৫৩৩টি হওয়ায় প্রায় ৭ হাজার ৯৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা অন্য এলাকায় সরবরাহ করা যাবে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু কায়েস বিন আজিজ জানান, কোরবানিকে ঘিরে খামারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপদ মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের নিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠকও আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির সময় ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং খামারি ও সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে।
অন্যদিকে খামারিরা জানিয়েছেন, এ বছর পশু পালনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খাদ্য ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পশু আসা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশের আশঙ্কায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
উপজেলার খামারি আলম বলেন, এ বছর তিনি ২২টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য দাম না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আরেক খামারি রফিকুল ইসলাম জানান, সারা বছরের পরিশ্রমের ফল পেতে বাজার স্থিতিশীল থাকা জরুরি।
বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ হাসান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে বিজিবিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।