বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সামনে বড় চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু এই খাতেই সরকারের ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর শেষে এই ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিশোধ করা হয়েছিল প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে আরও বেশি বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৮ শতাংশের আশপাশে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। তুলনামূলকভাবে India ও Sri Lanka-এর মতো দেশগুলোতে এই হার অনেক বেশি। ফলে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ Zahid Hussain মনে করেন, ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন ঋণ নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আবার অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়ালে বেসরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ এই পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে মোট প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই মূলধন, বাকিটা সুদ।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বড় মেগা প্রকল্পের ঋণ এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় সামনে এই চাপ আরও বাড়বে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক বড় প্রকল্পে নেওয়া ঋণ এখন ধীরে ধীরে পরিশোধের পর্যায়ে আসছে।
এদিকে World Bank ও International Monetary Fund ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, আগামী বছরগুলো অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং নতুন বৈদেশিক মুদ্রার উৎস তৈরি করা জরুরি।