চাঁদপুরের এখলাসপুর ইউনিয়নে বিষধর সাপ ধরতে গিয়ে এক যুবক সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। আশ্চর্যজনকভাবে কামড় খাওয়ার পরও তিনি সাপটি না ছেড়ে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এখলাসপুর আবাসন প্রকল্প এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে। আহত যুবকের নাম সোহেল প্রধান (৩১)। তিনি এখলাসপুর গ্রামের সেলিম প্রধানের ছেলে।
সোহেল প্রধান জানান, সকালে নতুন বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় নদীর পাড়ে একটি কারেন্ট জালে বড় একটি সাপ আটকে থাকতে দেখেন। সাপটি ছটফট করছিল। সেটিকে ছাড়াতে গেলে সাপটি হঠাৎ তার হাতে কামড় দেয়।
কামড়ের পরও তিনি সাপটি ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরে একটি বয়ামে সংরক্ষণ করেন। এরপর দ্রুত চাঁদপুর সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সাপটি বিষধর Russell’s viper।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেঘনা নদীর তীরবর্তী বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর, বাহাদুরপুর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়েছে। গত বছরও এ এলাকায় একাধিক রাসেল ভাইপার দেখা ও নিধন করা হয়।
তাদের অভিযোগ, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার অ্যান্টিভেনম পর্যাপ্ত না থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নদী ও চরাঞ্চলে সাপের উপদ্রব আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই সচেতনতা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, বর্ষায় কৃষক ও জেলেদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কামড়ালে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। সাপে কাটা রোগীদের প্রাথমিকভাবে ১০ ডোজ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ২০০ ডোজ অ্যান্টিভেনম সংরক্ষিত আছে।