এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে জাপান। সোমবার ভোরে দেশের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইদো দ্বীপে এ কম্পন অনুভূত হয়।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.২ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮৩ কিলোমিটার গভীরে।
সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে উরাহোরো ও নিইকাপ্পু এলাকায়। জাপানের সিসমিক স্কেলে উরাহোরোতে ‘আপার ৫’ এবং নিইকাপ্পুতে ‘লোয়ার ৫’ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। United States Geological Survey জানিয়েছে, কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, যেসব এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেখানে ভূমিধস বা পাথরধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জাপান আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তা আয়াতাকা এবিতা জানান, এই কম্পন সাম্প্রতিক বড় কোনো ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
এর আগে গত সপ্তাহেই ইওয়াতে উপকূলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যেখানে কয়েকজন আহত হন এবং উপকূলে সীমিত উচ্চতার সুনামিও দেখা যায়।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান করায় দেশটিতে প্রায়ই এমন কম্পন ঘটে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় দেড় হাজার ভূমিকম্প অনুভূত হয় এখানে।
২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির ক্ষত এখনো বহন করছে দেশটি। ওই দুর্যোগে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনাতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।