রাজধানীর শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ক্ষমতাসীনদের নাম ব্যবহার করে একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের নেতৃত্বে থাকা যুবদল পরিচয়ধারী মঈন উদ্দিন সম্প্রতি শ্যামলীর ৩ নম্বর রোডে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে মাসিক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে টার্গেট করে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে এই চক্র। যদিও এ বিষয়ে আগে লিখিত অভিযোগ খুব একটা ছিল না, সম্প্রতি একটি মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মঈনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই চক্রের পেছনে প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়া এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ছত্রচ্ছায়ায় এই বাহিনী এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মিরপুর-পল্লবী এলাকার একটি চক্রের সঙ্গেও তাদের যোগসাজশ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আগারগাঁও এলাকায় প্রায় ৩০০ স্ট্রিট ফুড দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে এই চক্র। দোকানপ্রতি মাসে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়, যা একাধিক গ্রুপের মধ্যে ভাগ হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেসরকারি হাসপাতাল মালিক জানান, গত দেড় বছর ধরে তারা এই চক্রের চাপে রয়েছেন। আগে মাসে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হত্যার হুমকি ও প্রতিষ্ঠান দখলের ভয় দেখানো হয়।
চাঁদাবাজির পাশাপাশি এই চক্রের বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।
শ্যামলী এলাকায় আবাসিক হোটেলগুলোতেও তাদের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব হোটেলে মাদক সরবরাহ ও অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাসিক চাঁদা আদায় করা হয়।
সরকারি হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসাও এই চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড পরিচালনার জন্য মাসোহারা দিতে বাধ্য করা হয়।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি জমিতে ভবন নির্মাণকাজেও বাধা দেয় মঈনের দল। জমির মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জমির ওপর চক্রটির নজর ছিল।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির মামলায় মঈন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের মামলায় মঈনের চার সহযোগীকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
গত শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে মঈনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব জানিয়েছে, মঈনকে নড়াইল জেলার কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।