দেশের আর্থিক ব্যবস্থা এখনো বড় অংশে ব্যাংকনির্ভর রয়ে গেছে। বিপুলসংখ্যক নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও অর্থনীতিতে তাদের কার্যকর অবদান সীমিত বলে উঠে এসেছে Bangladesh Bank এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে শত শত আর্থিক সংস্থা থাকলেও পুরো আর্থিক খাতের সম্পদের বড় অংশ এখনো ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে। বিপরীতে নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, ব্রোকারেজ ও অন্যান্য খাতের অংশগ্রহণ তুলনামূলক অনেক কম।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের বিনিয়োগ বাস্তব উৎপাদন বা শিল্প খাতে না গিয়ে ব্যাংক আমানত, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়ার বদলে অর্থ এক ধরনের চক্রে আটকে থাকছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ঋণ বিতরণে গতি কমে যাওয়া। ফলে ব্যাংকের বাইরে শিল্প ও ব্যবসার জন্য বিকল্প অর্থের উৎস শক্তিশালী হচ্ছে না।
এ অবস্থার পেছনে কার্যকর বন্ডবাজার না থাকাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উন্নত অর্থনীতিতে বন্ডবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস হলেও দেশে সেই কাঠামো এখনো দুর্বল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবা ও বিমা খাতে কিছু প্রবৃদ্ধি থাকলেও সেগুলো মূলত লেনদেন ও সঞ্চয়নির্ভর, উৎপাদনমুখী অর্থায়নে নয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়লেই আর্থিক খাত শক্তিশালী হয় না, প্রয়োজন বাস্তব খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো, বিকল্প পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং ব্যাংক নির্ভরতা কমানো।