মোবাইল ফোন ব্যবহারে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি করের চাপ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টেলিযোগাযোগ খাতে আরোপিত উচ্চ কর নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে টেলিকম নীতিমালা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বলেন, মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর কাঠামো সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০০ টাকার রিচার্জে বড় অংশ কর হিসেবে কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি জানান, টেলিকম খাতে কর ও ভ্যাট কমানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং এ নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সেবার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। গ্রাহকরা টাকা খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা পাচ্ছেন না, এটিকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই উল্লেখ করেন।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনা হবে। আগামী দিনে ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ফাইভজি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও বিভিন্ন চার্জ মিলিয়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের অর্থ কর হিসেবে দিতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়েই সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় এই চাপ আরও বেড়েছে। ফলে ১০০ টাকার রিচার্জে অর্ধেকের বেশি অর্থ কর হিসেবে চলে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হলে একদিকে যেমন গ্রাহক স্বস্তি পাবে, অন্যদিকে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের হারও বাড়বে।