মানুষের ভেতরে সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগগুলোর একটি হলো অহংকার। অন্যকে ছোট করে দেখা, পাপী মনে করে ঘৃণা করা কিংবা নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার প্রবণতা ধীরে ধীরে একজন মানুষের ইমান ও চরিত্রকে দুর্বল করে দেয়। ইসলামী শিক্ষায় বারবার সতর্ক করা হয়েছে এই মানসিকতা থেকে দূরে থাকতে।
ধর্মীয় শিক্ষাবিদদের মতে, কোনো পাপী মানুষকে দেখলে তাকে ঘৃণা করার বদলে নিজের ভেতরে আত্মসমালোচনা তৈরি হওয়া উচিত। ভাবা উচিত, হয়তো আমার অবহেলার কারণেই সে সঠিক পথ থেকে দূরে রয়েছে। এই ধরনের অনুশোচনা ইমানের সতেজতার লক্ষণ।
ইতিহাসে এমন একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য, যেখানে একজন প্রসিদ্ধ আলেম ও বুজুর্গ অহংকারের কারণে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। সফরের সময় তিনি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দেখে মনে মনে ঘৃণা অনুভব করেন। সেই অহংকারের কারণেই তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষায় পড়েন। এক পর্যায়ে পার্থিব মোহে জড়িয়ে পড়ে তিনি জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা হারান। দীর্ঘ সময় ভোগান্তির পর তওবা ও অনুতাপের মাধ্যমে আবার ফিরে আসেন সঠিক পথে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অহংকারের সঙ্গে আরও দুটি মারাত্মক রোগ জড়িয়ে থাকে, তা হলো হিংসা ও ঘৃণা। এসব গুণ মানুষের ভেতরের শান্তি নষ্ট করে এবং তাকে মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে।
আত্মিক উন্নতির জন্য সৎ ও নেককার মানুষের সান্নিধ্যে থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। কারণ ভালো মানুষের সঙ্গে থাকলে হৃদয় পরিশুদ্ধ হয় এবং খারাপ গুণাবলি দূর হয়। যেমন একটি আয়না পরিষ্কার না থাকলে নিজের চেহারা দেখা যায় না, তেমনি মানুষের অন্তর কলুষিত হলে তার জ্ঞান ও মর্যাদা কোনো কাজে আসে না।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা বলেন, জীবনে সত্যিকারের সফলতা পেতে হলে আত্মশুদ্ধি জরুরি। শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জন নয়, সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে ধারণ ও প্রয়োগ করাই আসল বিষয়। আর এর জন্য প্রয়োজন বিনয়, আত্মসমালোচনা এবং সৎ মানুষের সান্নিধ্য।