দীর্ঘ সংঘাত ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফিলিস্তিনে সীমিত পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধের পর এটিই প্রথম কোনো ভোট আয়োজন, যা নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক মহলের।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মূলত পশ্চিম তীর এর বিভিন্ন এলাকা এবং গাজার নির্দিষ্ট একটি অংশে ভোটগ্রহণ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পশ্চিম তীরে প্রায় ১৫ লাখ এবং গাজার দেইর আল বালাহ এলাকায় প্রায় ৭০ হাজার ভোটার অংশ নিচ্ছেন।
তবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সীমিত আকারে হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ও বাস্তবতার কারণে অনেক জায়গায় ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।
এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্বাস এর দল ফাতাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান শক্তি হামাস এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
গাজার পরিস্থিতি আরও জটিল। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম সেখানে ভোট আয়োজন করা হলেও তা কেবল সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে দেইর আল বালাহ এলাকায়। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় বিস্তৃতভাবে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি।
তবুও অনেকের কাছে এই নির্বাচন প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। স্থানীয় এক তরুণ ভোটার বলেন, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ভোট দেওয়া তাদের অস্তিত্বের প্রকাশ এবং অধিকার চর্চার অংশ।
এদিকে জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংস্থাটির মতে, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।