চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ৩২৫ কোটি লিটার। তবে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ২৮০ কোটি লিটার। এতে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি লিটারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে মিরপুর, উত্তরা, ভাটারা, শাহজাদপুর, কলাবাগানসহ অর্ধশতাধিক এলাকায়।
পানির অভাবে অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি থাকে না, আবার কোথাও সামান্য পানি এলেও তা দিয়ে প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রীষ্মকালে পানির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, একই সঙ্গে উৎপাদনও কমে আসে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, নলকূপের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বিদ্যুতের সমস্যা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে রাজধানীর পানি সরবরাহের বড় অংশই ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরশীল। যদিও একাধিক পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে কিছু প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়ায় সম্ভাব্য উৎপাদনের বড় অংশ অপচয় হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামো ঠিকভাবে ব্যবহার করলে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন দ্রুত পাইপলাইন সম্প্রসারণ, যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
এদিকে পানির দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভও দেখা গেছে। পল্লবীতে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। কয়েক ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, কয়েকদিন নয়, অনেক এলাকায় সপ্তাহজুড়ে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেককে বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, আবার কোথাও পানির গাড়ির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে পানির সংকট আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নগরবাসীর দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।