যুক্তরাজ্যে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বছরে ৪ লাখ ৩ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন গড়ে প্রতি ৮০ সেকেন্ডে একজন। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়াই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে ক্যান্সারের হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে স্থূলতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল জানান, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন।
যদিও ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকার হার দ্বিগুণ হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অগ্রগতির গতি কিছুটা কমে এসেছে। নতুন জাতীয় ক্যান্সার পরিকল্পনা এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে আশা করা হলেও, তা বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে এর সাফল্য।
‘ক্যান্সার ইন দ্য ইউকে রিপোর্ট ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সম্পদের নিশ্চয়তা জরুরি।
প্রতিবেদনটি আরও সতর্ক করেছে যে, ক্যান্সার দ্রুত শনাক্তে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে অর্ধেকেরও বেশি রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হচ্ছেন না। এ অবস্থায় ফুসফুস ক্যান্সার স্ক্রিনিং আরও বিস্তৃত করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ৭,৮০০ রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া ক্যান্সার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন তামাক ও ভ্যাপ বিল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধূমপান থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই আইনে ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে।
অন্যদিকে, চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার রোগীকে চিকিৎসা শুরু করতে ৬২ দিনের বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ কারণে বিশেষজ্ঞ জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, গত এক বছরে রেকর্ড সংখ্যক ক্যান্সার পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়েছে, যা এনএইচএস-এর জন্য অতিরিক্ত ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার ফল। তবে সরকার আরও উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দ্রুত রোগ শনাক্ত, আগেভাগে চিকিৎসা এবং রোগীদের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করা। ২০৩৫ সালের মধ্যে এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ক্যান্সারে আক্রান্ত ৭৫ শতাংশ মানুষ পাঁচ বছর পরও সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।