কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে কৃষকরা একাধিক সেবা সরাসরি পাবেন।
বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
সরকারি উদ্যোগের মধ্যে কৃষক কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার, ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ, বাজার ও আবহাওয়া তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং যান্ত্রিকীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা এবং জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী ফসল চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।
কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ধানের পাশাপাশি ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ ও মসলাজাতীয় ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কম পানি ও কম রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষিকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।