হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে আজারবাইজান হয়ে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় ইরান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃসুলভ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইরান সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
দূতাবাস আরও জানায়, দুই দেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে ইরান ও বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খতিবজাদেহর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককেও স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ ও কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান।
এছাড়া ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ঘিরে বাংলাদেশের শোক প্রকাশ এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসাও করেছে দূতাবাস।
একই সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে ইরান বিষয়ক সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করে।