দেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ঘাটতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অধিকাংশ উপজেলায় মজুদ প্রায় শূন্য। সরকারি মনিটরিং সিস্টেমেই এখন প্রায় সর্বত্র ‘লাল সংকেত’ দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, কনডম, পিল, ইমপ্লান্ট, আইইউডি সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অনেক উপজেলায় এসব উপকরণ একেবারেই নেই। কোথাও কোথাও মাত্র এক থেকে দুই মাসের সীমিত মজুদ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘লাল’ সংকেত মানে হয় মজুদ নেই অথবা তিন মাসের কম রয়েছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ এলাকাই এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শত শত উপজেলায় কনডম ও পিল নেই। দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যেমন ইমপ্লান্ট ও আইইউডিও প্রায় অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মাতৃস্বাস্থ্যের জরুরি ওষুধের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।
এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সরবরাহ ব্যবস্থার ভাঙন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও কেনাকাটার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো বড় সরবরাহ আসেনি।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত চার মাস সময় লাগে। সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়ায় এখন বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে তারা আশা করছেন, আগামী মাসগুলোতে নতুন সরবরাহ আসতে পারে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্বও ঝুঁকিতে পড়বে।
গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব আরও বেশি। কারণ সেখানে অধিকাংশ মানুষ সরকারি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে কিনে নিতে বলা হচ্ছে, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।
একজন পরিবারকল্যাণ কর্মী বলেন, অনেক নারী প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরা এসব কিনতেও আগ্রহ দেখান না, ফলে সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে।
এদিকে জনবল সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। মাঠ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক পদ খালি থাকায় সেবার পরিধি কমে গেছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দেশের দীর্ঘদিনের অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।