যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরা।
সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানের এই অবস্থান নতুন করে কূটনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুখপাত্র জানান, এই মুহূর্তে সম্ভাব্য কোনো বৈঠকের সময়, স্থান বা কাঠামো নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো পরিকল্পনা নেই।
পাকিস্তানে মার্কিন তৎপরতা
ইরান আলোচনা নাকচ করলেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। মার্কিন প্রতিনিধিদলের একটি উচ্চপর্যায়ের দল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে অন্তত দুটি মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণ করেছে, যেখানে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তার প্রতিনিধিরা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সই এই মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন।
প্রতিনিধিদলে কারা আছেন
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন। তারা আগের দফার আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।
শর্তের ইঙ্গিত, বিস্তারিত প্রকাশ নয়
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানা হলে তারা আলোচনায় বসতে পারে। তবে সেই শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়নি।
একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের তথাকথিত লাল রেখাগুলো সম্মান করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। যদিও ঠিক কী কী শর্ত রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ আপাতত অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।