তীব্র গরম ও দহনীয় রোদের কারণে জনজীবনের পাশাপাশি শখের বাগানের গাছগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়মিত পানি দেওয়ার পরও অনেক সময় দেখা যাচ্ছে গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে বা পুরো গাছ মরে যাচ্ছে। এই চরম আবহাওয়ায় যথাযথ যত্ন না নিলে বাগান অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন উদ্ভিদবিদ ও বাগান বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এই গরমেও গাছকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।
গ্রীষ্ম উপযোগী গাছ নির্বাচন
সব গাছ একসঙ্গে সব মৌসুমে টিকে থাকে না। তাই গ্রীষ্মের জন্য জবা, জুঁই, বোগেনভিলিয়া, অপরাজিতা বা জিনিয়ার মতো রোদ সহনশীল গাছ নির্বাচন করা ভালো। এসব গাছ সহজেই তাপ সহ্য করতে পারে এবং পুরো মৌসুমে বাগানকে রঙিন রাখে।
পানি দেওয়ার সঠিক সময়
অনেকে দুপুরের তীব্র রোদে গাছ ঝিমিয়ে পড়লে পানি দেন, যা গাছের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি দেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ভোরে সূর্য ওঠার আগে অথবা বিকেলে সূর্য ডোবার পর। সন্ধ্যা ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পানি দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। গভীর রাতে পানি দিলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করা
সবসময় ভেজা বা একেবারে শুকনো কোনোটাই ভালো নয়। পানি দেওয়ার আগে মাটি আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত। ভেতরের অংশ ভেজা থাকলে নতুন করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত পানি দিলে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে।
রোদের সরাসরি প্রভাব থেকে সুরক্ষা
দুপুরের তীব্র রোদ থেকে গাছ বাঁচাতে টবগুলো ছায়াযুক্ত স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত। বারান্দার কোণে বা বড় গাছের নিচে রাখলে ভালো। প্রয়োজনে নার্সারি নেট বা খড়ের ছাউনি ব্যবহার করে হালকা ছায়ার ব্যবস্থা করা যায়।
রাসায়নিক সার এড়িয়ে জৈব সার ব্যবহার
তীব্র গরমে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক মাটিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই সময়ে চাল-ডাল ধোয়া পানি, সবজির খোসা বা ডিমের খোসার মতো জৈব সার ব্যবহার করা উত্তম। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে ঠাণ্ডা থাকে।
সূত্র: এই সময়