দেশের জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকারে জমে আছে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশে মোট চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে স্থানীয় কয়েকটি কোম্পানি। মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন পেট্রোল ও অকটেনের প্রয়োজন হলেও তার উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কোম্পানির কাছ থেকে তেল গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। এর ফলে উৎপাদিত তেল ট্যাংকারেই পড়ে থাকছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াও বাধার মুখে পড়ছে।
একটি শীর্ষ স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নির্ধারিত পরিমাণ তেল সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো সরবরাহ চেইনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের লাইন তৈরি হচ্ছে।
সরকারি একটি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রিত বিতরণ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে দেশে অকটেন মজুত সক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে মজুত কিছুটা বেশি বলেও জানা গেছে। নতুন চালান আসায় সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও চাপ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ার এই সমন্বয়হীনতার কারণেই বাজারে এমন দ্বৈত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, দ্রুত সমন্বয় করা না হলে সামনে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।