বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হতে পারে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সফরসূচি অনুযায়ী এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০০৬ সালে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার পৌরসভার আয়তন বাড়িয়ে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার এবং ওয়ার্ড সংখ্যা ১২টি থেকে ২১টিতে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। লক্ষ্য ছিল পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দিয়ে দ্রুত সিটি করপোরেশন করা, কিন্তু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় দীর্ঘ সময় বিষয়টি ঝুলে থাকে। পরবর্তী সরকারগুলোর কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা পুনরায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠায়। গত বছরের অক্টোবরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণার আশ্বাস দেওয়া হলেও তখন তা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব কমিটির (প্রাক-নিকার) সভায় বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সভায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আরও সাতটি উন্নয়ন প্রস্তাব পাস হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া উন্নয়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করবে।