রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে অকটেন ও পেট্রোল গ্রহণ কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিপোতে জ্বালানি মজুতের জায়গা সংকট দেখা দেওয়ায় আপাতত সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একদিকে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, অন্যদিকে মজুত পূর্ণ থাকার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার মতে, উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও যদি ভোক্তারা জ্বালানি না পান, তবে বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে।
অন্যদিকে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে অকটেন মজুতের সক্ষমতা সীমিত। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিমাণ জ্বালানি আমদানি হওয়ায় সংরক্ষণ সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে আপাতত দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি নেওয়া কমানো হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও হঠাৎ করে গ্রহণ কমে যাওয়ায় তাদের কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে কাজ চলছে। পাশাপাশি জনভোগান্তি কমাতে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে জ্বালানি সংকট ঘিরে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।