দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে টানা মন্দা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টানা আট মাসেরও বেশি সময় ধরে পোশাক রপ্তানি কমছে।
শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের মধ্যে ৯টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক রপ্তানি কমেছে। শুধু স্পেনেই সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং পণ্যের ডেলিভারি সময় (লিড টাইম) বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রতিযোগী দেশগুলো সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এ মন্দা শুরু হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতারা আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেয়। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার। এতে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি কমেছে ৫.৫১ শতাংশ।
এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৫.১১ বিলিয়ন ডলার (কমেছে ৬.৪২ শতাংশ) এবং ওভেন খাতে আয় হয়েছে ১৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার (কমেছে ৪.৪৮ শতাংশ)।
বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২.৫৪ শতাংশ, জার্মানিতে ১৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ১২.২৬ শতাংশ, ইতালিতে ১০.৬১ শতাংশ, জাপানে ৭.১১ শতাংশ এবং ডেনমার্কে ১৩.৭২ শতাংশ। তবে নেদারল্যান্ডস ও কানাডাতেও সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যে রপ্তানি কমেছে ১.৬১ শতাংশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে ডিজেল ঘাটতি ও উৎপাদন ব্যাঘাত রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার মতে, ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন দীর্ঘমেয়াদি চাপের মুখে পড়েছে দেশের পোশাক খাত।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং শুল্ক নীতির প্রভাবে ক্রয়াদেশ ধারাবাহিকভাবে কমছে, যা রপ্তানি আয়ে স্থবিরতা তৈরি করেছে।