ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই নতুন সহায়তা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জাপান সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, এবং আমরা পারস্পরিক নির্ভরশীল একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর অংশ।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত। এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা মূলত আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির সমপরিমাণ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ব্যবহার করা হবে।
এই উদ্যোগকে বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানিয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (JBIC), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (NEXI), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর মতো রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আরও জানান, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
বর্তমানে জাপানের হাতে থাকা তেল মজুত দিয়ে প্রায় ২৫৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি চাপের কারণে ইতোমধ্যে সেই মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে দেশটি। গত মাসে রেকর্ড ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয় এবং আগামী মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের মজুত ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—কারপুলিং উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এয়ারকন্ডিশনার কম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত বৈঠকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এশিয়ার কোনো একক দেশের পক্ষে এত বড় জ্বালানি সংকট একা সামলানো সম্ভব নয়।”