বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার ইঙ্গিত মিলতেই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে অস্থিরতা এখনো কাটেনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের কিছু বেশি অবস্থানে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও কমে ৯০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই দরপতনের পেছনে মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত। এতে করে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
এর আগে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে কিছুটা স্থির থাকতে পারে। তবে উত্তেজনা আবার বাড়লে দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, এমনকি পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তা ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এতে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।