দেশের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নতুন আরও ১০টি উপজেলায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। তার ভাষায়, কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।
তিনি জানান, যেসব কৃষকের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ ছিল, তাদের ঋণ ইতোমধ্যে মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগও নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ খাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তিনি টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মৌসুম শেষে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য দাম পান না। হিমাগার স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষিজ পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথাও তুলে ধরেন তিনি। পরিবারের নারী প্রধানদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সবশেষে তিনি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন দেশ গড়ার সময়। কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই দেশের উন্নয়ন সম্ভব।