যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, Strait of Hormuz ঘিরে যে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আলোচনার খবর সামনে আসায় তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫২ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ২৫ ডলারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ দশমিক ০৬ ডলার কমে ৯৬ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে মার্কিন অবরোধের কারণে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল। গত মাসে দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পতন সাময়িক স্বস্তি দিলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তবিক সরবরাহ ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
এদিকে International Energy Agency তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। শুধু মার্চ মাসেই দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মার্কিন নৌ-অবরোধ, যা এখন Gulf of Oman এবং Arabian Sea পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলোকে হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে মার্চের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব বছরের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে।