যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হয়নি।
এদিকে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হরমুজ প্রণালি এলাকায় নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আলোচনার ব্যর্থতার পর যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
মাঠপর্যায়ের মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আতঙ্ক। কাতারের দোহাভিত্তিক এক অর্থনৈতিক পরামর্শক জানান, পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে এবং প্রতিদিনই নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ইসরায়েলের তেল আবিব-এর এক বাসিন্দা বলেন, শুরু থেকেই এই আলোচনায় খুব বেশি আশা ছিল না। দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই ভিন্ন যে সমঝোতা হওয়া কঠিন ছিল।
ইরানের রাজধানী তেহরান-এও একই ধরনের হতাশা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় এক কর্মী জানান, দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার পর শান্তির আশা জাগলেও তা দ্রুত ভেঙে গেছে।
অন্যদিকে আবুধাবি-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য এলাকাতেও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেকেই মনে করছেন, সংঘাত এড়ানোর পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এক ইরানি নাগরিকের ভাষায়, “শান্তি চাই, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।”
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। কূটনৈতিক সমাধান না এলে পুরো অঞ্চল নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।