ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৩৩ সালে মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে মাত্র ৯ বছর বয়সেই সংগীতচর্চা শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে গান রেকর্ড করার মাধ্যমে তিনি পেশাদার সংগীত জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৫০-এর দশকে তিনি বলিউডে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখেন।
শুরুর দিকে তাকে চটুল ও ক্যাবারে ধাঁচের গানে বেশি দেখা গেলেও পরবর্তীতে তিনি গজল ও শাস্ত্রীয় সংগীতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। ‘উমরাও জান’-এর ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘ইজাজত’-এর ‘মেরা কুছ সামান’ গান তাকে বিশেষ খ্যাতি এনে দেয়।
ক্যারিয়ারে তিনি একাধিকবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। দীর্ঘ সংগীত জীবনে তার কণ্ঠ ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
ব্যক্তিজীবনে আশা ভোঁসলে ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদের পর ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যুর পর তিনি জীবনের শেষ সময়গুলো কাটান পরিবারের সান্নিধ্যে।
তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীত জগতে এক যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন শিল্পী ও অনুরাগীরা।