ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং উভয় পক্ষকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং পুনরায় আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
এক বিবৃতিতে পেনি ওং বলেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তার মতে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা এবং দ্রুত সংঘাতের একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা। তিনি সতর্ক করেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও সংকটে ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ অংশ নেন। দীর্ঘ সময় পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি আলোচনা।
আলোচনার প্রধান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরান এটিকে তাদের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি আলোচনাকে আরও জটিল করে তোলে।
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনও আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি একদিকে অঞ্চলটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখালেও পরে আবার এটিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়।