অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ‘বাস্তব চিত্র’ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছর এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিএনপি সরকার একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে।
শুক্রবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সময়ে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তার ভাষায়, ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে এবং অনেক ব্যাংক কার্যত অকার্যকর অবস্থায় পৌঁছেছে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধির হার কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা ও খেলাপি ঋণের হারও উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দলীয়করণের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেটের প্রভাব দেখা গেছে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার সুশাসন, সংস্কার ও নীতি-পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং একটি ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।