দেশের মুরগির বাজারে অস্বাভাবিক দামের পার্থক্যে চাপে পড়েছেন একদিকে খামারিরা, অন্যদিকে ভোক্তারা। খামার পর্যায়ে লোকসানে বিক্রি হলেও বাজারে সেই মুরগিই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
খামারিদের হিসাবে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে খরচ প্রায় ১৪৫ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে অনেক সময় তা এর কাছাকাছি বা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কিন্তু খুচরা বাজারে সেই মুরগি ২২০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে অন্যান্য মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগি কেজিতে ৪৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৮০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে, যা অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের বৃদ্ধি।
খামারিরা বলছেন, গত এক বছরে খাদ্যসহ উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের পর থেকেই নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মুরগির মতো সহজলভ্য আমিষ এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি পণ্যের দামে চাপ তৈরি করছে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি অংশ সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। এ অবস্থায় বাজার তদারকি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং খামার থেকে খুচরা পর্যন্ত দামের পার্থক্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।