মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপে যায়। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে বড় ধাক্কা লাগে।
Rockford Weitz জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও সাম্প্রতিক দিনে তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েকটিতে। এই বড় ব্যবধান থেকেই বোঝা যায় পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরবরাহ নয়, জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়াও দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Usha Haley-এর মতে, কিছু দেশে স্টোরেজ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল, যা আবার চালু করতে সময় লাগবে। বিশেষ করে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যদি নতুন করে কোনো সংকট না তৈরি হয়।
এদিকে International Monetary Fund-এর প্রধান Kristalina Georgieva সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কিনা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।