ইরানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৪০ দিনের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইল। একই সঙ্গে দেশটিতে হওয়া হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক হিসাবও সামনে এনেছে তেলআবিব।
শুক্রবার Times of Israel-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, Israel ও United States যৌথভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে Iran-এর বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান শুরু করে।
তেলআবিবের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি কমানো এবং দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে বুধবার ভোর পর্যন্ত ইরান ইসরাইলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়।
Israeli Defense Forces জানায়, পুরো সংঘাতে ইরান প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত, যা বিস্তৃত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায়।
এই হামলায় Israel-এ ২০ জন বেসামরিক নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিক নিহত হন। পশ্চিম তীরে আরও ৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আহত হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট নিহত ২৪ জনই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের অধিকাংশই হামলার সময় বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না। এর মধ্যে ক্লাস্টার বোমায় ১০ জন এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রে ১৪ জন নিহত হন।
যুদ্ধের কারণে অন্তত ৫ হাজার ৫০০ জন ইসরাইলি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
অভিযানের শুরুতে ইরান একদিনে প্রায় ৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দ্বিতীয় দিনে ৬০টি এবং তৃতীয় দিনে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তত ১৬টি প্রচলিত ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, পাশাপাশি ক্লাস্টার বোমাযুক্ত প্রায় ৫০টি হামলার ঘটনায় বহু স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে।