গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা কিছুটা ধীরগতিতে চলে এসেছে। উৎপাদন খাতের সংকোচন এবং কৃষি ব্যবসা খাতের ধীরগতির কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (PMI) অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশের অর্থনীতির গতি কমে ৫৩.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এটি ছিল ৫৫.৭ পয়েন্ট এবং জানুয়ারিতে ৫৩.৯ পয়েন্ট। পিএমআই সূচক ৫০-এর উপরে থাকলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ বোঝায়, আর ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন নির্দেশ করে। অর্থাৎ, এখনও অর্থনীতি সম্প্রসারণের পথে থাকলেও গতিশীলতা আগের চেয়ে কম।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (MCCI) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে দেশের ৪০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি এবং সেবা খাতের নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে এই পিএমআই তৈরি করছে। সূচক তৈরির ক্ষেত্রে কাঁচামাল ক্রয়, পণ্য সরবরাহ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রধান খাতগুলোতে ব্যবসায়িক পরিবেশ মিশ্র অবস্থায় রয়েছে। রমজান ও ঈদ উৎসবের কারণে খুচরা ও সেবা খাতে চাহিদা বাড়লেও, কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন এবং ইউটিলিটি ব্যয়ের বৃদ্ধি মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলোও ধীর হচ্ছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের সিইও এম মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, “গত মাসের পিএমআই সূচক ইঙ্গিত দেয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা উৎপাদন খাতকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ঝুঁকি আরও অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে দুর্বল করেছে। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
জরিপের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিবেশ ধীরে ধীরে উন্নতি পেতে পারে।