চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে নতুন এক শান্তি পরিকল্পনা সামনে এনেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও Fars News Agency এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করা হবে, যা ওমানের সঙ্গে ভাগ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।
এ ছাড়া প্রস্তাবে ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং হিমায়িত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ইরানের পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুই সপ্তাহের জন্য সীমিত ‘সেফ প্যাসেজ’ ব্যবস্থায় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিনেটর Chris Murphy সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো একক শক্তির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে ইসলামাবাদে আসন্ন বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ১০ দফা প্রস্তাবই আলোচনার মূল ভিত্তি হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হতে পারে।